গোপনীয়তা নীতি
সারো স্কুলের প্রতিদিনের কাজ আর শিক্ষার্থীর শেখায় সাহায্য করে। তার জন্য যতটুকু তথ্য লাগে, ততটুকুই রাখি। তথ্য বিক্রি করি না, বিজ্ঞাপনে দিই না।
- কোনো বিজ্ঞাপন নেই। কারও তথ্য বিক্রি হয় না।
- শিক্ষার্থীর জন্য অভিভাবকের সম্মতি রেকর্ড করা হয়: অভিভাবকের পাতায় এক ট্যাপে, অথবা স্কুলের সই করা সম্মতিপত্রে।
- শিক্ষা কর্মকর্তা আর টিচার ট্রেইনার শুধু সংখ্যা দেখেন, কোনো শিক্ষার্থীর নাম বা নম্বর নয়।
- যেকোনো সময় নিজের তথ্য দেখা, ঠিক করা, ডাউনলোড বা মুছে ফেলা যায়।
১. কারা আমরা
সারো (shaaro.app) পরিচালনা করে স্টুডিও ইমাজিন, ৮৩/বি সিদ্ধেশ্বরী সারকুলার রোড, মালিবাগ, ঢাকা ১২১৯। এই নীতিতে “আমরা” মানে সারো আর স্টুডিও ইমাজিন। গোপনীয়তা নিয়ে যেকোনো প্রশ্নে লিখুন: hello@shaaro.app।
এই নীতি মেনে চলে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন (ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং তার পরের আইন), শিশু আইন ২০১৩, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬।
২. কী তথ্য রাখি
| কার | কী রাখি |
|---|---|
| শিক্ষার্থী (স্কুলের রেজিস্টার) | নাম, শ্রেণি, শাখা, রোল, শিক্ষার্থী আইডি, লিঙ্গ, জন্মতারিখ (স্কুল দিলে), অভিভাবকের মোবাইল নম্বর। স্কুল যা লেখে: হাজিরা, নম্বর, রেজাল্ট শিট, রিপোর্ট কার্ড, শিক্ষকের মন্তব্য, প্রতিভা, প্রশংসাপত্র ও TC, ফি আর পরিশোধের হিসাব, জমা দেওয়া কাজের ছবি, দক্ষতা গ্রুপ আর স্টার। |
| নিজের লগইন থাকা শিক্ষার্থী (নবম শ্রেণি থেকে) | ওপরের সব, আর: দেওয়া কুইজের ফল, “আমি কোথায় আছি?” যাচাইয়ের ফল, নিজের লেখা নোট ও কুইজ (ছবি দিলে ছবিসহ), পিন (এনক্রিপ্ট করা)। |
| অভিভাবক | অভিভাবকের কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। আমরা রাখি স্কুলের দেওয়া মোবাইল নম্বর। অভিভাবকের পাতায় নিজে দিলে: নামের প্রথম অংশ, মোবাইল নম্বর (চাইলে), এই ফোনে কোন কোন সন্তান, সম্মতির রেকর্ড (তারিখ আর নীতির সংস্করণ), শিক্ষককে পাঠানো বার্তা আর ধন্যবাদ নোট। |
| শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, অফিস স্টাফ ও টিউটর | নাম, মোবাইল বা ইমেইল, স্কুল, ভূমিকা, বিষয় ও ক্লাস, লেখা ও যাচাই করা প্রশ্ন, প্রশ্নপত্র, লেসন প্ল্যান, ডায়েরি, লাইব্রেরিতে তোলা ফাইল, বোর্ড আর বর্ষপঞ্জির ছবি, পয়েন্ট। টিউটরের ক্ষেত্রে, তিনি যে শিক্ষার্থীদের নাম যোগ করেন। |
| শিক্ষা কর্মকর্তা ও টিচার ট্রেইনার | নাম, পদ, দায়িত্বের এলাকা, দাপ্তরিক মোবাইল বা ইমেইল। |
| সবার | লগইনের সময়, লগইনের চেষ্টা সফল হলো কি না, আর শেষ কবে এসেছেন। নম্বর, হাজিরা, গ্রেড, রেজাল্ট শিট আর রেজিস্টারে কে কখন কী বদলালেন, তার লগ। |
| ভিজিটর | কোন পাতা দেখা হলো, কোথা থেকে এলেন, ডিভাইস আর ব্রাউজারের ধরন, আর নেটওয়ার্ক থেকে আন্দাজ করা দেশ ও শহর। এর সাথে আইপি ঠিকানা রাখা হয় না (১১ নম্বর অংশ দেখুন)। |
যা রাখি না: জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নম্বর, আঙুলের ছাপ, মুখ চেনার তথ্য, ফোনের সঠিক অবস্থান (জিপিএস), ফোনের কন্ট্যাক্ট লিস্ট, ব্যাংক বা কার্ডের নম্বর।
৩. কেন রাখি
- স্কুল চালানো: রেজিস্টার, হাজিরা, নম্বর, রেজাল্ট, রিপোর্ট কার্ড, প্রশংসাপত্র, ফি, রুটিন, পরীক্ষা আর আসন বিন্যাস।
- কুইজ আর অনুশীলন দেখানো, উত্তর মেলানো, আর শিক্ষার্থী কোথায় আছে তা দেখানো।
- শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, অভিভাবক আর কর্মকর্তাকে যার যতটুকু দেখার অধিকার, ততটুকু দেখানো।
- লগইন চালানো, আর স্কুল এসএমএস ব্যবহার করলে অভিভাবককে বার্তা পাঠানো।
- প্রশ্নের মান যাচাই আর শিক্ষকের পয়েন্ট ও স্বীকৃতি হিসাব।
- সেবা নিরাপদ রাখা, প্রশ্নভান্ডার নকল ঠেকানো, ভুল খোঁজা আর আইন মেনে চলা।
আইনি ভিত্তি: স্কুলের সাথে সেবার চুক্তি, অভিভাবকের সম্মতি, আপনার নিজের সম্মতি, আর আইনের বাধ্যবাধকতা। সম্মতি যেকোনো সময় তুলে নেওয়া যায়।
৪. ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থী
- বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর নিজের লগইন নেই। তারা স্কুলের রেজিস্টারের একটা লাইন, আর সেই রেকর্ড স্কুলের। নবম শ্রেণি থেকে স্কুল চাইলে শিক্ষার্থীকে লিংক আর পিন দিয়ে নিজের লগইন দিতে পারে।
- অভিভাবকের সম্মতি দুইভাবে রেকর্ড হয়: অভিভাবকের পাতায় এক ট্যাপে, অথবা স্কুল অভিভাবকের সই করা সম্মতিপত্র নেয় আর শিক্ষক সেটা সারোতে তোলেন। প্রতিটা সম্মতির তারিখ আর নীতির সংস্করণ রাখা হয়।
- অভিভাবকের লগইন লাগে না। স্কুলের এসএমএসের লিংকে, অথবা শিক্ষকের দেওয়া G কোডে (৭ দিন চালু থাকে) অভিভাবকের পাতা খোলে। এক ফোনে কয়েকজন সন্তান রাখা যায়; ফোনটাকে চেনে একটা সই করা কুকি। লিংকটা চাবির মতো, কাউকে দেবেন না।
- শিক্ষার্থীকে কোনো বিজ্ঞাপন দেখানো হয় না। বিজ্ঞাপন বা মার্কেটিংয়ের জন্য প্রোফাইল বানানো হয় না, আচরণ ট্র্যাক করা হয় না।
- দক্ষতা গ্রুপ আর অনুশীলনের স্কোর শেখার জন্য পরামর্শ, সরকারি ফল নয়। শিক্ষক চাইলে বদলাতে পারেন, আর কোনো বড় সিদ্ধান্ত শুধু এর ওপর নেওয়া হয় না। নম্বর আর রেজাল্ট শিট স্কুলের নিজের রেকর্ড; স্কুল তোলে আর অনুমোদন দেয়।
- শিক্ষার্থীর লেখা নোট আর কুইজ আগে তার বিষয় শিক্ষক দেখে অনুমোদন দেন। স্কুলের বাইরে অন্যরা শুধু নামের প্রথম অংশ আর শ্রেণি দেখে, স্কুল বা ছবি নয়। ছবিতে মুখ থাকলে পোস্ট অনুমোদন হয় না। তিনটা রিপোর্ট এলে পোস্ট লুকিয়ে যায়।
- গর্বের কার্ডে সংখ্যা থাকে। শিক্ষার্থীর নামের প্রথম অংশ আসে শুধু তখন, যখন স্কুল জানিয়েছে যে অভিভাবক রাজি। শিক্ষার্থীরা একে অন্যকে ব্যক্তিগত বার্তা পাঠাতে পারে না।
৫. কে কী দেখতে পারে
| কে | কী দেখেন |
|---|---|
| শিক্ষার্থী (নিজের লগইন) | নিজের পাতা |
| অভিভাবক | শুধু নিজের সন্তানের পাতা, লিংক বা G কোড দিয়ে |
| শিক্ষক | নিজের ক্লাসের শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীর ওপর মন্তব্য দেখেন লেখক, শ্রেণি শিক্ষক আর প্রধান শিক্ষক। |
| প্রধান শিক্ষক | নিজের স্কুলের সব শিক্ষক আর শিক্ষার্থী |
| অফিস স্টাফ | নিজের স্কুলের রেজিস্টার, ফি, প্রশংসাপত্র, পরীক্ষা আর এসএমএস |
| টিউটর | নিজের যোগ করা শিক্ষার্থী |
| শিক্ষা কর্মকর্তা ও টিচার ট্রেইনার | স্কুল বা এলাকাভিত্তিক সংখ্যা, কোনো শিক্ষার্থীর নাম বা নম্বর নয় |
| সনদের কিউআর কোড যাঁর হাতে | সনদে যা ছাপা আছে, শুধু সেটুকু যাচাই |
| সারো টিম | সহায়তার জন্য দরকার হলে; তাঁদের প্রতিটা সিদ্ধান্ত লগে থাকে |
৬. কার সাথে ভাগ করি
আমরা কারও তথ্য বিক্রি বা ভাড়া দিই না। সেবা চালাতে কিছু প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নিই। তারা আমাদের নির্দেশে, চুক্তি মেনে কাজ করে:
- ডেটাবেস, লগইন আর ফাইল রাখা: Supabase
- ওয়েবসাইট চালানো: Vercel। ভিজিটের আন্দাজি দেশ আর শহর এর নেটওয়ার্ক থেকে আসে।
- কিছু ফর্ম মানুষ পূরণ করছে কি না যাচাই: Cloudflare Turnstile
- এসএমএস: স্কুল এসএমএস ব্যবহার করলে একটা এসএমএস সেবাদাতা, শুধু মোবাইল নম্বর আর বার্তা
- ইমেইল: Resend, যখন আমরা আপনাকে ইমেইল পাঠাই
- Google দিয়ে লগইন করলে Google আপনার নাম আর ইমেইল জানায়
- শিক্ষক পোস্টের খসড়া চাইলে তাঁর উত্তর একটা এআই সেবায় (Anthropic) যায়; তার আগে শিক্ষার্থীর নাম, ফোন নম্বর আর রোল সরিয়ে ফেলা হয়
- বৃষ্টির সতর্কতার জন্য একটা আবহাওয়া সেবা (Open-Meteo) শুধু স্কুলের মানচিত্রের অবস্থান পায়, কোনো মানুষের নয়
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বৈধ লিখিত আদেশ পেলে তবেই কোনো সরকারি সংস্থাকে তথ্য দিই, আর যতটুকু আইন বলে ততটুকুই।
৭. তথ্য কোথায় থাকে
তথ্য থাকে Supabase-এর ক্লাউড ডেটা সেন্টারে। আসা-যাওয়ার পথে আর সংরক্ষণের সময় তথ্য এনক্রিপ্ট করা থাকে। ছবি, জমা দেওয়া কাজ আর ফাইল থাকে প্রাইভেট স্টোরেজে; যাঁদের অনুমতি আছে, শুধু তাঁরাই সারোর ভেতর দিয়ে খুলতে পারেন। আইন বা কর্তৃপক্ষ চাইলে তথ্য দেশের সার্ভারে সরানো হবে। কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র বা বায়োমেট্রিক তথ্য আমরা রাখি না।
৮. কত দিন রাখি
- অ্যাকাউন্ট চালু থাকা পর্যন্ত।
- মুছে ফেলার অনুরোধে অ্যাকাউন্ট সাথে সাথে লুকিয়ে যায়, আর ৩০ দিন পর রাতের নিয়মিত কাজে মুছে যায়।
- স্কুলের রেজিস্টার, হাজিরা আর ফলের রেকর্ড স্কুলের নির্দেশে রাখা বা মোছা হয়।
- নিজের তথ্যের ডাউনলোড ফাইল ৭ দিন পরে মুছে যায়।
- অনুরোধের সঙ্গে দেওয়া কাগজপত্র (যেমন যোগদানপত্র) অনুরোধ বন্ধ হওয়ার ১৮০ দিন পরে মুছে যায়।
- ভিজিট গোনার তথ্য ৯০ দিন পরে মুছে যায়।
- নামহীন সংখ্যা (যেমন একটা উপজেলার গড়) রেখে দেওয়া হয়, তা থেকে কাউকে চেনা যায় না।
৯. আপনার অধিকার
- নিজের তথ্য দেখা ও ডাউনলোড করা
- ভুল তথ্য ঠিক করা
- সম্মতি তুলে নেওয়া
- অ্যাকাউন্ট কিছুদিন বন্ধ রাখা, বা অ্যাকাউন্ট আর তথ্য মুছে ফেলা
- অভিযোগ করা
অভিভাবক তাঁর সন্তানের হয়ে এসব অধিকার চাইতে পারেন। লগইন ছাড়াও shaaro.app/delete-account পাতা থেকে অনুরোধ পাঠানো যায়। অনুরোধ পেলে ৭ কর্মদিবসে জানাই যে পেয়েছি, ৩০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করি।
১০. নিরাপত্তা
- সব সংযোগ HTTPS; তথ্য এনক্রিপ্ট করা থাকে।
- পিন আর পাসওয়ার্ড কখনো খোলা অবস্থায় রাখা হয় না।
- ১৫ মিনিটে পাঁচবার ভুল পিন বা পাসওয়ার্ড দিলে সেই লগইন কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে। ভুল কোডও গোনা হয় আর সীমিত।
- সারো টিমের অ্যাডমিন লগইনে দুই ধাপের যাচাই চালু করা যায়; চালু থাকলে কোড ছাড়া কনসোল খোলে না। প্রতিটা সিদ্ধান্ত লগে থাকে।
- শিক্ষার্থীর কুইজে উত্তর মেলানোর আগে সঠিক উত্তর ব্রাউজারে যায় না। একটা অ্যাকাউন্ট বা সংযোগ কত প্রশ্ন নিতে পারে তার সীমা আছে, যাতে প্রশ্নভান্ডার নকল না হয়।
- ক্লাসরুমের স্ক্রিনের টোকেনের শুধু একটা হ্যাশ (sha256) রাখা হয়। আনলিংক করলে স্ক্রিন সাথে সাথে বন্ধ হয়।
১১. কুকি
শুধু দরকারি কুকি আর ব্রাউজার স্টোরেজ ব্যবহার করি: লগইন ধরে রাখা, ভাষা আর ভূমিকা মনে রাখা, অভিভাবকের ফোনে সন্তানদের তালিকা (সই করা কুকি), ক্লাসরুমের স্ক্রিন চেনা, আর নেট না থাকলেও কাজ চালাতে ব্রাউজারে রাখা তথ্য। লগইন ছাড়া অনুশীলনে ব্রাউজার একটা এলোমেলো আইডি রাখে; সার্ভারে যায় শুধু তার হ্যাশ, দিনের ফ্রি অনুশীলন গোনার জন্য। বিজ্ঞাপনের কুকি বা বাইরের ট্র্যাকার নেই। কোন পাতা কতবার দেখা হলো, কোথা থেকে লোকে এলো, কোন ডিভাইসে, তা আমরা নিজেদের সার্ভারে গুনি, কুকি ছাড়া। এই গোনায় আইপি ঠিকানা রাখা হয় না; একজন ভিজিটরকে একদিনের জন্য চেনা যায় এমন একটা সংকেত তৈরি হয়, যা পরদিন আর মেলানো যায় না। ব্রাউজারে Do Not Track বা Global Privacy Control চালু থাকলে সেটুকুও তৈরি হয় না। এতে কারও ব্যক্তিগত প্রোফাইল হয় না, আর ৯০ দিন পর মুছে যায়। প্রশ্নভান্ডার নকল ঠেকাতে একটা সংযোগ কত প্রশ্ন নিল, তা অল্প সময়ের জন্য তার ঠিকানা ধরে গোনা হয়; কেউ অস্বাভাবিক হারে প্রশ্ন নিলে আটকানোর রেকর্ডে ঠিকানাটা থাকে।
১২. তথ্য ফাঁস হলে
কোনো তথ্য ফাঁস হলে আইন অনুযায়ী দ্রুত জাতীয় উপাত্ত কর্তৃপক্ষকে জানাব। যাঁদের ক্ষতির ঝুঁকি আছে, তাঁদেরও জানাব, কী হয়েছে আর কী করছি।
১৩. পরিবর্তন
বড় কোনো পরিবর্তনের অন্তত ৬০ দিন আগে ওয়েবসাইটে জানাব। প্রতিটা সংস্করণ এই পাতায় থাকবে।
১৪. অভিযোগ ও যোগাযোগ
অভিযোগ বা প্রশ্ন: hello@shaaro.app (বিষয়ে লিখুন “Privacy”)। সমাধান না পেলে বাংলাদেশের জাতীয় উপাত্ত সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতে পারেন।